পাঁশকুড়া , পূর্ব মেদিনীপুর – গতকাল শুক্রবার শ্যামসুন্দরপুর পাটনা সিদ্ধিনাথ মহাবিদ্যালয়ের উদ্যোগে মহাবিদ্যালয়ের মাঠে মহাবিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি এবং প্রাক্তন জাতীয় শিক্ষক নির্মল চন্দ্র মাইতির স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হল । প্রায় সারাদিন ধরেই স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয় । স্মরণসভার আহ্বায়ক ছিলেন মহাবিদ্যালয়ের পরিচালন কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডক্টর গোবিন্দপ্রসাদ কর এবং কলেজের অধ্যক্ষা ডক্টর উমা ঘোষ । স্মরণসভায় বক্তব্য রাখেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মন্ত্রী ডক্টর সৌমেন মহাপাত্র ,পাঁশকুড়া পশ্চিমের বিধায়িকা ফিরোজা বিবি , পাঁশকুড়া পৌরসভার চেয়ারম্যান নন্দকুমার মিশ্র , প্রাক্তন বিধায়ক চিত্তরঞ্জন দাসঠাকুর , জেলা পরিষদের প্রাক্তন সভাধিপতি নিরঞ্জন সিহি , কলকাতা দূরদর্শনের প্রাক্তন অধিকর্তা বনবিহারী পাহাড়ী , শিক্ষারত্ন শিক্ষক মানস কুমার দাস, সাহিত্যিক সুকেশ কুমার মন্ডলসহ অন্যান্যরা । পরিবারের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন ওনার বড় ছেলে অমিতাভ মাইতি । অনুষ্ঠানটির সঞ্চালনা করেন প্রাক্তন সহ প্রধান শিক্ষক পুলিনবিহারী শাসমল ও শিক্ষক নিতাই চাঁদ মান্না । সভায় সভাপতিত্ব করেন কলেজ পরিচালন সমিতির সহ সভাপতি ও প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক ননীগোপাল আদক।বর্তমান পরিস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি সামাজিক দূরত্ব মেনে এবং স্যানিটাইজার টানেলের মাধ্যমে প্রত্যেককে স্যানিটাইজড করে অনুষ্ঠিত হয় । সুশৃংখল ও শোকাচ্ছন্ন পরিবেশে অরাজনৈতিক স্মরণসভাটি অনুষ্ঠিত হয় । আগামী বছর মে মাসে কলেজের প্রতিষ্ঠা দিবসে প্রয়াত জাতীয় শিক্ষক নির্মল চন্দ্র মাইতির একটি আবক্ষ মূর্তি উন্মোচিত হবে ।

উল্লেখ্য , ‘জাতীয় শিক্ষক’ নির্মল চন্দ্র মাইতি গত ২৯ শে সেপ্টেম্বর প্রয়াত হন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৫ বছর । ঐদিন এগরা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে সন্ধ্যা সাতটায় তিনি পরলোক গমন করেন । তিনি পাঁশকুড়ার শ্যামসুন্দরপুর পাটনা হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক ছিলেন । তার আগে বেশ কিছুদিন ধরে তিনি অসুস্থ ছিলেন । তিনি ১৯৯৪ সালে রাষ্ট্রপতি পুরস্কার পেয়েছিলেন। তিনি পাঁশকুড়া ব্রাডলি বার্ট হাইস্কুল এবং ভোগপুর কেনারাম স্কুলে শিক্ষকতা করেছিলেন । পাটনা সিদ্ধিনাথ মহাবিদ্যালয় তাঁর উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৮০ সাল থেকে তিনি পাটনায় একটি মহাবিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য আন্দোলন করে আসছিলেন। ওই কলেজের তিনি আমৃত্যু সভাপতি ছিলেন । এছাড়া, পাটনায় কৃষ্ণচরণ বালিকা বিদ্যালয়ের তিনি প্রতিষ্ঠাতা । তিনি ডব্লিউ বি টি এর ভূতপূর্ব সভাপতি ছিলেন । বাংলাদেশে একটি শিক্ষা বিষয়ক সেমিনারে তিনি বক্তব্য রাখতে গিয়েছিলেন । ‘পাঁশকুড়া সাহিত্য-সংস্কৃতি মঞ্চের’ তিনি প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি । ১৯৮৭ এবং ১৯৯৬ সালে নন্দনপুর বিধানসভা আসন থেকে যা বর্তমানে লুপ্ত তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন । ‘পাঁশকুড়া থানার ইতিহাস’ গ্রন্থের তিনি সম্পাদনা করেছিলেন ।’ পূর্ব মেদিনীপুর জেলা হেরিটেজ পঞ্জি’ গ্রন্থের তিনি সম্পাদনা করেন । নেতাজির পাঁশকুড়া আগমনের ৭৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে একটি উৎসব ও স্মরণিকা প্রকাশিত হয়েছিল যার সভাপতি তিনি ছিলেন । উল্লেখ্য, ১৯৩৮ খ্রিস্টাব্দে জাতীয় কংগ্রেসের হরিপুরা অধিবেশনে নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু সভাপতি পদ লাভ করেন ।এরপর তিনি মেদিনীপুর জেলাতে এসেছিলেন এবং পাঁশকুড়ায় আসেন। তিনি খুব অল্প বয়সে বাবাকে হারিয়েছিলেন এবং তাঁর মা খুব কষ্ট করে তাঁকে বড় করেন। মাতৃবিয়োগের পর তিনি পায়ে জুতো এবং মাথায় ছাতা দিতেননা । তাঁকে ‘পাঁশকুড়ার গান্ধী’ বলা হয়ে থাকে । ২০০০ সালে তিনি কর্মজীবন থেকে অবসর গ্রহণ করেছিলেন । তাঁর পুত্র বর্তমানে এগরা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের সুপার ।
