
‘জাতীয় শিক্ষক’ নির্মল চন্দ্র মাইতি প্রয়াত হলেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৫ বছর । এগরা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে আজ সন্ধ্যা সাত টায় তিনি পরলোক গমন করেছেন । তিনি পাঁশকুড়ার শ্যামসুন্দরপুর পাটনা হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক ছিলেন । বেশ কিছুদিন ধরে তিনি অসুস্থ ছিলেন । তিনি ১৯৯৪ সালে রাষ্ট্রপতি পুরস্কার পেয়েছিলেন। তিনি পাঁশকুড়া ব্রাডলি বার্ট হাইস্কুল এবং ভোগপুর কেনারাম স্কুলে শিক্ষকতা করেছিলেন । পাটনা সিদ্ধিনাথ মহাবিদ্যালয় তাঁর উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৮০ সাল থেকে তিনি পাটনায় একটি মহাবিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য আন্দোলন করে আসছিলেন। ওই কলেজের তিনি আমৃত্যু সভাপতি ছিলেন । এছাড়া, পাটনায় কৃষ্ণচরণ বালিকা বিদ্যালয়ের তিনি প্রতিষ্ঠাতা । তিনি ডব্লিউ বি টি এর ভূতপূর্ব সভাপতি ছিলেন । বাংলাদেশে একটি শিক্ষা বিষয়ক সেমিনারে তিনি বক্তব্য রাখতে গিয়েছিলেন । ‘পাঁশকুড়া সাহিত্য-সংস্কৃতি সভার’ তিনি প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি । ১৯৮৭ এবং ১৯৯৬ সালে নন্দনপুর বিধানসভা আসন থেকে যা বর্তমানে লুপ্ত তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন । ‘পাঁশকুড়া থানার ইতিহাস’ গ্রন্থের তিনি সম্পাদনা করেছিলেন ।’ পূর্ব মেদিনীপুর জেলা হেরিটেজ পঞ্জি’ গ্রন্থের তিনি সম্পাদনা করেন । নেতাজির পাঁশকুড়া আগমনের ৭৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে একটি উৎসব ও স্মরণিকা প্রকাশিত হয়েছিল যার সভাপতি তিনি ছিলেন । উল্লেখ্য, ১৯৩৮ খ্রিস্টাব্দে জাতীয় কংগ্রেসের হরিপুরা অধিবেশনে নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু সভাপতি পদ লাভ করেন ।এরপর তিনি মেদিনীপুর জেলাতে এসেছিলেন এবং পাঁশকুড়ায় আসেন। তিনি খুব অল্প বয়সে বাবাকে হারিয়েছিলেন এবং তাঁর মা খুব কষ্ট করে তাঁকে বড় করেন। মাতৃবিয়োগের পর তিনি পায়ে জুতো এবং মাথায় ছাতা দিতেননা । তাঁকে ‘পাঁশকুড়ার গান্ধী’ বলা হয়ে থাকে । ২০০০ সালে তিনি কর্মজীবন থেকে অবসর গ্রহণ করেছিলেন । তাঁর পুত্র বর্তমানে এগরা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের সুপার ।
